এমআইওবির সংবাদ সম্মেলন

এনইআইআরের পূর্ণ বাস্তবায়ন চান মোবাইল ফোন উৎপাদনকারীরা

সম্প্রতি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

সম্প্রতি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর মধ্য দিয়ে দেশের নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া অবৈধ হ্যান্ডসেটগুলো বন্ধ করা হবে। তবে এ ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)। সংগঠনটি বলছে, এনআইআর ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের মনে যে ভয় ছড়ানো হচ্ছে, এর কোনো ভিত্তি নেই। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ ও নকল হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। তাই এনইআইআরের পূর্ণ বাস্তবায়ন চান মোবাইল ফোন উৎপাদনকারীরা।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ও এমআইওবির নির্বাহী সদস্য জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দেশে মোবাইল ফোন বাজারের একটি বড় অংশ অবৈধ পণ্যের দখলে। এ বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ পণ্যই অবৈধভাবে দেশে আনা হয়েছে।’ এ কারণে প্রতি বছর সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি করেন শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার।

তিনি আরো বলেন, ‘এরই মধ্যে বাংলাদেশ স্মার্টফোন নির্মাণে অনেক এগিয়ে গেছে। বর্তমানে আমরা মূলত স্মার্টফোন জোড়া লাগানো এবং ব্যাটারি ও চার্জার তৈরির মতো কাজগুলো করছি। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য দেশেই মোবাইল ফোনের বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি করা। কেবল স্থানীয় বাজার নয়, বরং বিশ্ববাজারে পণ্য রফতানি করাও আমাদের লক্ষ্য।’

সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, ‘এনইআইআরে কারো কথা নথিবদ্ধ বা অবস্থানের ওপর নজরদারির চালানোর প্রযুক্তি নেই। তাই এ ব্যবস্থায় আলাপচারিতা বা ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশে চলে যাওয়ার দাবিটি ভ্রান্ত ধারণা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বৈধ ব্যবসায়ীরা কোনো বিশেষ সুবিধা নেয়া বা আধিপত্য তৈরির চেষ্টা করছেন না, বরং তারা নিজেরাই অবৈধ বাণিজ্যের কারণে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।’

এমআইওবির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্মার্ট টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা উদ্যোক্তারা চাই দেশের মানুষ আরো কম দামে স্মার্টফোন কিনুক। দেশেই মোবাইল ফোন উৎপাদনের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি, এনইআইআর বাস্তায়নের উদ্যোগ রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করবে।’

এমআইওবির তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে দেশী-বিদেশী মিলিয়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। এ খাতে সরাসরি ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি ডিলার, ডিএসআর, সার্ভিস ও খুচরা বিক্রয়সহ আরো প্রায় ৫০ হাজার মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

আরও